Home / মিডিয়া নিউজ / অভিনয় করতে গিয়ে কত কষ্ট করতে হয় সেটা হয়তো কেউ দেখেন না

অভিনয় করতে গিয়ে কত কষ্ট করতে হয় সেটা হয়তো কেউ দেখেন না

আমিন খান। নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক। পরিবর্তিত চিত্রজগতে এখনও কাজ করছেন। তবে

ঢাকাই চলচ্চিত্রে আগের মতো জৌলুসতা নেই বলে কাজের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য নয়। নাটকেও দেখা

যায় এ নায়ককে।অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন ‘ভেজালমুক্ত খাদ্য চাই’ শিরোনামে

একটি সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়ে। বর্তমান ব্যস্ততা, চলচ্চিত্রের একাল-সেকাল নিয়ে

সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছিলেন।…………….আপনি যখন অভিনয় শুরু করেছেন সে সময় চলচ্চিত্র জগৎ

কেমন ছিল? আমিন খানঃ ভালো ছিল। যদিও তখন চলচ্চিত্রে আসা এখনকার মতো এত সহজ ছিল না। তথাপি শুরুর সময় আমরা ভালোভাবে যত সহকারে কাজ করতে পেরেছি। একটি ছবি করতে গিয়ে সেটের সবাই মিলে কাজ করেছি। সবার মাঝে সুন্দর মান্যতা ছিল। শিল্পীদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হতো কিন্তু তা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখনকার মতো কাদা ছিটানোর মতো নয়। সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে কাজ করেছি বলেই হয়তো দর্শক আমাকে আজও ভালোবাসেন।

বর্তমান ঢাকাই চলচ্চিত্র সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন? আমিন খানঃ শুধু চলচ্চিত্র নয়, সব ক্ষেত্রে সব শ্রেণীর মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে আন্তরিকতা কমেছে। চলচ্চিত্রে তো আন্তরিকতা একেবারই কমে গেছে। এ জগতের সিনিয়রদের মধ্যে অনেকেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন। যারা আছেন তাদের অনেকেই হয়তো অন্য কাজে ব্যস্ত। চলচ্চিত্র এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের মন রয়ে গেছে সেই পুরনো জগতে। মনস্তাত্ত্বিক ধ্যান-ধারণা বদলাতে হবে। আমরা যে যুগে বাস করছি ঠিক এ যুগের গল্প, সংলাপ এবং পরিবেশভিত্তিক ছবি বানানোর দিকে নজর দিতে হবে। তবে সেকালের আন্তরিকতাকে নিজেদের ভেতর লালন করতে হবে।

চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলার অভিজ্ঞতা কেমন? আমিন খানঃ এ জগৎটি আসলে চমৎকার। ‘অভিনয়’ অন্য দশটি পেশার মতোই, তবে একটু ভিন্ন। আমরা প্রতিদিন নতুন কিছুর সন্ধানে বের হই। নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হই। সমস্যাগুলো এড়িয়ে গিয়ে দর্শকদের জন্য নতুন নতুন ছবি উপহার দেয়ার চেষ্টা করি। দর্শক আমাদের অভিনয় দেখেন ঠিকই কিন্তু অভিনয় করতে গিয়ে কত যে কষ্ট করতে হয় সেটা হয়তো কেউ দেখেন না। তবুও আমি বা আমরা বেশ সন্তুষ্ট যে মানুষকে বিনোদিত করতে পেরেছি।………………………………………………………

অধিক প্রচারণা সত্ত্বেও এখনকার ছবির দর্শক কমছে কেন বলে মনে করেন?আমিন খানঃ আসলে মুক্তির আগে ছবির প্রচারণা আগেও ছিল। এখনকার মতো এত মাধ্যম না থাকলেও তখনকার প্রচারণা ছিল বেশ চমৎকার; এবং সবার কাছে আমাদের খবর ঠিকই পৌঁছে যেত। এখন সিনেমাহলে দর্শকদের বিভিন্নভাবে ডাকা হয়। এখন মানুষের বিনোদনের অনেক মাধ্যম হয়েছে, যা আগে ছিল না। তাই অনেকেই বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে তিন ঘণ্টার ছবি দেখতে চান না। কেননা তার হাতের কাছেই অন্য মাধ্যম রয়েছে। যেখানে হয়তো দর্শক বেশি বিনোদিত হচ্ছে।

কীভাবে মানুষকে ছবিমুখী করা যায়? আমিন খানঃ একটি বিষয় ভেবে দেখেন, প্রতিদিন একই খাবার খেতে আপনারও ভালো লাগবে না। বিনোদনের বেলায়ও তা-ই। একই গল্প, একই পরিবেশ, গতানুতিক লোকেশন মানুষ হয়তো আর দেখতে চান না। তাহলে কেন দর্শক নিজের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে যাবেন। কী দেখে তারা তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট করবেন? তিন ঘণ্টা সময়ে তারা তো নতুন কিছু চাইবেন যা অন্য কোথাও, অন্য বিনোদন মাধ্যমে পাবে না। এ নিয়ে যারা ছবি বানান তাদের ভাবতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার এবং চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য ভালো পরামর্শক দরকার। একজন ভালো প্রযোজক আর পরিচালক উন্নতমানের ছবি বানাতে পারবে কিন্তু চলচ্চিত্রের সমস্যাগুলো দূর করতে পারবে না। যেমন আমাদের দিয়ে বিমান চালানোর জন্য পাইলটের অভিনয় করাতে পারবেন কিন্তু বিমান চালিয়ে নিতে পারবেন না। যার যা কাজ তাকে দিয়ে করিয়ে নিলেই অনেকটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

তাহলে একজন অভিনেতা হিসেবে আপনার দায়বদ্ধতা কী? আমিন খানঃ দেখুন আমি বরাবরই একজন অভিনেতা। এটি আমার পেশা এবং পরিচয়। সে ক্ষেত্রে আমাকে যে চরিত্র দেয়া হবে আমি সেটাতে অভিনয় করব, যদি আমার চরিত্রটি পছন্দ হয়। কিন্তু অভিনয়ের বাইরে যিনি যে কাজ করবেন তাকে সে বিষয়ে দায় নিতে হবে। একজন পরিচালক ভালো বুঝবেন কীভাবে পরিচালনা করা যায়। প্রযোজক, গল্পকার এমনকি একজন লাইটম্যানও তার নিজের কাজে পারদর্শী হবেন। আমি যেহেতু অভিনয় করি, এ বিষয়ে আমার ধ্যান-জ্ঞান থাকবে। দায়বদ্ধতা বিষয় আমি এ কথাই বলতে পারি, সবারই একটু পড়ালেখা করা দরকার।

‘আমরা ভেজালমুক্ত খাদ্য চাই’ নামে আপনার সচেতনতামূলক একটি সামাজিক সংগঠন আছে। এর বর্তমান অবস্থা কী? আমিন খানঃ খুব ভালো অবস্থানে আছে আমার এ সংগঠনটি। এটি যখন চালু করি তখন একটি মিটিংয়ে দু-তিনশ লোক হতো। এখন চার থেকে পাঁচ হাজার লোক বসেন সংগঠনের যে কোনো মিটিংয়ে। আমার উদ্দেশ্য যারা খাদ্যে ভেজাল দেন তাদের বুঝিয়ে ভালো করা। খাদ্যে যেন ভেজাল না দেয় সে জন্য ভেজালদানকারীকে সম্মিলিত চেষ্টায় সচেতন করা। এ সংগঠন আমার হলেও আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করছে ‘মার্সেল’ গ্র“প। গ্র“পটির চেয়ারম্যান সব সময় আমার পাশে থেকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।

রাজনীতিতে আসার চিন্তা আছে কি? আমিন খানঃ না। আমি নেতৃত্বদানে অপটু এবং আমার এতে কোনো আগ্রহ নেই। জোর করেও যদি আমাকে রাজনৈতিক দায়িত্ব প্রদান করা হয় আমি বিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করব। আমি যেখানে আছি বেশ ভালোই আছি।‘সাহসী যোদ্ধা’ নামে একটি ছবির শুটিং করছেন। অগ্রগতি কত দূর?আমিন খানঃ ছবিটির শুটিং প্রায় শেষ করলাম। আমার সঙ্গে পপি অভিনয় করেছে। মাহমুদ হাসান শিকদার পরিচালিত ‘অবতার’ নামের আরও একটি ছবির কাজ শেষ করছি। নতুন একটি ছবিতে কাজের বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে শুটিং শুরু হওয়ার পরই সেটি সম্পর্কে জানাব।

নাটকেও নিয়মিত দেখা যায় আপনাকে… আমিন খানঃ অভিনয় আমার কাছে পেশা। অভিনয় ছাড়া আর কিছু করি না। সেটা নাটক হোক বা চলচ্চিত্রই হোক। আমার অভিনীত কয়েকটি নাটক বর্তমানে কয়েকটি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। সামনেও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করার কথা চলছে। আশা করছি শিগগিরই শুটিং শুরু করব।নিজেকে নিয়ে আর কী পরিকল্পনা রয়েছে? আমিন খানঃ বেঁচে থাকা আজকের দিন নিয়েই ভাবি। কাল বেঁচে থাকব কিনা এ নিয়েই সংশয় আছে। তবে চলচ্চিত্রের জন্য ভাবনা থাকে। চলচ্চিত্রের সবাই যদি এক কাতারে থেকে কাজ করতেন আমাদের এ শিল্পটি কত না সুন্দর হতো! এ সুন্দর কেন মানুষ কাদা ছোড়াছুড়িতে নষ্ট করে দেয় এ বিষয়টি আমাকে প্রায় ভাবায়।

Check Also

যে কারণে সিনেমায় এসেছিলেন হুমায়ূন ফরীদি

মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্র অভিনয়ের সবখানে তিনি রাজত্ব করেছেন দুর্দান্ত প্রতাপে। কয়েক দশক অভিনয়ে তিনি মাতিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.